পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ শেষেই জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে এটিই আপাতত তার শেষ অ্যাসাইনমেন্ট। এরপর বিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে নতুন দায়িত্ব শুরু করবেন তিনি।
সালাহউদ্দিনের এই দায়িত্ব বদল হুট করে নয়। বিসিবির পক্ষ থেকে তাকে এইচপিতে নেওয়ার ভাবনা ছিল, আবার সালাহউদ্দিন নিজেও মনে করছেন, এই মুহূর্তে জাতীয় দলের চেয়ে ভবিষ্যতের ক্রিকেটার তৈরির জায়গায় তার কাজ বেশি কার্যকর হতে পারে। নতুন দায়িত্ব নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে।
এইচপিতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এইচপিতে যারা থাকবে, তাদেরকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। খেলার পাশাপাশি তাদের ক্রিকেটীয় চিন্তাভাবনা আর জীবনযাপন প্রণালিতেও উন্নতি আনাটা জরুরি।’
তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে আগেও কাজ করেছেন সালাহউদ্দিন। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই এইচপির দায়িত্বকে নিজের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে আমি এ ধরনের কাজ আগেও করেছি। তাই আমার মনে হয়েছে, ভবিষ্যতের ক্রিকেটার তৈরির কাজটাই আমি ভালো করতে পারব। বিসিবিও সেভাবেই চিন্তা করেছে।’
জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঘাটতিগুলোও এখন তার কাছে আরও পরিষ্কার। বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে নিচের দিকে ব্যাট করতে পারেন এবং বোলিংয়েও অবদান রাখেন, এমন অলরাউন্ডারের অভাব দেখছেন তিনি। এইচপিতে সেই ধরনের ক্রিকেটার তৈরিতে বিশেষ নজর থাকবে তার।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় দলের প্রয়োজনটা আমি এখন আরও ভালো করে বুঝি। যেমন সাদা বলের ক্রিকেটে আমাদের একজন ভালো অলরাউন্ডার দরকার, যে বোলিংয়ের পাশাপাশি ৭-৮ নম্বরে নেমে নির্ভরতা দিতে পারবে। এই ঘাটতিটা আমাদের থেকেই যাচ্ছে। এইচপিতে শুরু থেকেই আমার এ ধরনের ক্রিকেটারদের দিকে দৃষ্টি থাকবে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়ন কাঠামোতেও পরিবর্তন আসছে। অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে সরাসরি জাতীয় দলের পথে থাকা ব্যবধান কমাতে অনূর্ধ্ব-২৩ দল যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। এই দলটি কাজ করবে অনূর্ধ্ব-১৯ ও জাতীয় দলের মাঝের ধাপ হিসেবে। আর এইচপি হবে এমন একটি জায়গা, যেখানে তরুণ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও প্রয়োজন হলে বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারবেন।
সালাহউদ্দিনের ভাবনা, এইচপিকে শুধু কয়েক মাসের ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। ক্রিকেটার তৈরি করতে হলে ধারাবাহিক কাজ দরকার। তাই তিনি চান এইচপির কার্যক্রম সারা বছর চলুক।
২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন সালাহউদ্দিন। বিসিবির সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। দায়িত্ব বদলালেও আপাতত চুক্তির মেয়াদ একই থাকছে। এইচপির বর্তমান প্রধান কোচ ডেভিড হেম্পকে অন্য দায়িত্বে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের।
খুলনা গেজেট/এনএম

